সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পুরনো বদঅভ্যাস (এমাসের শেষ পোস্ট !)

এসো নীপবনে / ছায়াবিথী তলে এসো /
করো স্নান নবধারা জলে / এসো নীপবনে /
ছায়াবিথী তলে এসো / করো স্নান...
... যুঁথিমালা দলে এসো নীপবনে / ছায়াবিথী তলে এসো /

গান শুনতে শুনতে ব্লগ লেখা আমার পুরনো বদঅভ্যাস। এই গানটা সেদিন হঠাৎই নেটে পেয়ে গেলাম।
আসলে, কিছু গান আছে, যেগুলো মনের মধ্যে মাঝে মাঝে আপনা থেকে গেয়ে ওঠে, কিন্তু পিসিতে বসলে তােদর খোঁজার কথা মাথায় আসে না, কিংবা নেট থেকে নামানোর চিন্তা আসে না। এই গানটা আম্মু মাঝে মাঝে গাইত। এখন হয়ত আর খেয়ালে আসে না, তাই গায় না। ইরানে থাকতে নাকি ভাইয়া আম্মুকে বলত- "মমন, ছায়াবিথী তলে বেগু।" অর্থ হল- আম্মু, ছায়াবিথী তলে গানটা বলেন। :) এখন অবশ্য ভাইয়ার মুখের বুলি ইংলিশ হয়ে গিয়েছে :(
যাহোক, আমি যে গানটা খুঁজতে গিয়ে এই গানটা পেয়ে গেলাম, সেটা হল - আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে। নেটে সবচে' বেশি যেটা পাওয়া যায়, সেই গায়িকার গানটা একেবারেই বিরক্তিকর।
আমি গানটা প্রথম শুনেছিলাম আমার কাজিন ইয়ানার কন্ঠে। তার ভয়েস বেশ ভালো, গায়ও সুন্দর। তারপর, একবার মনে হয় রেডিও কিংবা টিভিতে গানটা শুনেছিলাম। তখনও ভালো লেগেছিলো। একদিন পিসিতে রবীন্দ্র-সঙ্গীত ফোল্ডারে গানটা খুঁজতে গিয়ে পেলাম না, তারপর....
কয়েকদিন আগে, খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। কে যেন মনের মধ্যে গানটা গেয়ে দিয়ে গেলো। বাইরে প্রবলবেগে বৃষ্টি, সন্ধ্যার অন্ধকার, আর আমি গুগল সার্চ আর ইউটিউবে- প্রায় ঘন্টা ধরে খুঁজে ভালো-মন্দ অনেকগুলো শুনে শেষমেষ ভালো একটা বের করতে পারলাম।
এখন সেটাই শুনছি...

আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে
জানি নে, জানি নে
কিছুতে কেন যে মন লাগে না
ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে...

আজ বাসায় মার্জিয়া আর সজীব এলো। সার্কিট বুঝতে আর বুঝাতে গিয়ে কিভাবে যেন ইসলামের নানান প্রসঙ্গ চলে এলো। সার্কিট রইল পড়ে, আমরা তর্ক আর আলোচনা (তবে, এদিন আলোচনার পার্টটাই বেশি ছিল) করতে করতে বেলা গড়িয়ে গেলো।
আমার মাথা থেকে সার্কিট উধাও হয়ে গেলো।
আগামীকাল কী পরীক্ষা দেবো আল্লাহই জানেন !
তাতে কী !
... মন হারাবার আজি বেলা / পথ ভুলিবার খেলা / মন চায় / মন চায় / হৃদয় জড়াতে কারো চির ঋণে / আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে...

যাহ, গভীর রাতে বৃষ্টি নামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলাম।
কলেজের বন্ধু মোর্শেদের জন্মদিন গেলো আজ- হ্যাপি বার্থডে !

নূরে আলম।
জুলাই ২৯, ২০১১।

মন্তব্যসমূহ

  1. osthir post...
    shomoy nie dhire shusthe ekta bishoye likhle blogta aro valo lagto...

    উত্তরমুছুন
  2. আমিও যীনাতের সাথে একমত।
    পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা রইলো।

    উত্তরমুছুন
  3. রমজানের শুভ ইচ্ছা ? হুমম...
    রমজানের শুভ ইচ্ছা এই হতে পারে যে আমি যেন ভালোভাবে সাওম পালন করতে পারি, শুধু উপবাস যেন না হয় !
    ধন্যবাদ।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[ব্লগে কমেন্ট পোস্ট করার পরও যদি না দেখায়, তাহলে দ্বিতীয়বার পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। খুব সম্ভবত স্প্যাম গার্ড সেটাকে সরিয়ে নিয়েছে, আমি পাবলিশ করে দেবো।]

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগ এবং আহমেদ দিদাতের ইরান অভিজ্ঞতা

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।)
আহমেদ দিদাত (১৯১৮-২০০৫) এর নাম হয়তো অনেকের অজানা থাকবে। তবে ডা. জাকির নায়েকের নাম নিশ্চয়ই অজানা নয়। ডা. জাকির নায়েকের বর্তমান কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণা হলেন আহমেদ দিদাত। আহমেদ দিদাত, যিনি কিনা ডা. জাকির নায়েকের নাম দিয়েছিলেন "দিদাত প্লাস" – পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে লেকচার দেয়া ছিলো তাঁর কাজ। যাহোক, ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামী ইরানের জন্ম হয়। বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে ভিজিট করেন আহমেদ দিদাত, সাক্ষাৎ করেন ইমাম খোমেইনীর সাথে এবং নিজদেশে ফিরে এসে ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তাঁর অনুভূতি তুলে ধরেন। আহমেদ দিদাতের নানা বিষয়ে বক্তব্য ও চিন্তাভাবনা বাংলা ভাষায় কিছু না কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু শিয়া-সুন্নি ঐক্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর চমৎকার বক্তব্যের অনুবাদ কোথাও না পেয়ে সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই অনুবাদ করে ফেললাম। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। মূল অডিও কোথাও কোথাও শুনতে বা বুঝতে অসুবিধা হয়। কোথাওবা অডিও নিঃশব…