সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গ্রামের গল্প


অনেকদিন ব্লগ লেখা হয় না। সর্বশেষ ব্লগটা লিখেছি একমাস আগে। ইদানিং সময় এত দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে যে কিছুই লেখার সময় পাচ্ছি না। অবশ্য এমাসের দুই তারিখ থেকে আঠারো তারিখ পর্যন্ত একদম পড়াশুনা ছাড়া দিন পার করেছি। এমন সময়ের বেশ আনন্দ আছে। আর হ্যাঁ- এই সময়ের মাঝেই কোরবানির ঈদ পার হয়ে গিয়েছে। এই ঈদে লেখার মত বেশ কিছু স্মৃতি সঞ্চয় হয়েছে। ঢাকায় ফিরেই ভেবেছিলাম সেগুলো লিখে ফেলবো, কিন্তু নেট-কম্পিউটার বন্ধ হয়ে থাকায় লেখা হয়ে ওঠে নি। বাসায় একটা নেটবুক আছে, কিন্তু অত ছোট জিনিসে লিখত বসতে মন ওঠে না।
সে যাক।
আমার খালাতো ভাই সালমান, বেচারার ঈদের দিনেও এয়ারপোর্টে ডিউটি ছিলো। ডাক্তার আর এঞ্জিিনয়ারদের এই এক যন্ত্রণা, বিশেষত ডাক্তারদের। যাহোক, পরদিন ছুটি পেয়েই সে আমাকে নিয়ে গেলো নানাবাড়ি- অনেকটা জোর করেই। আমি কেঁচো টাইপের মানুষ, ভেবেছিলাম পুরো ছুটিটাই পড়াশুনা, ডায়রি লেখা, ব্লগিঙ আর শার্লক হোমসের সাতটা সিজন মুখস্থ করে কাটিয়ে দেবো। কিন্তু সে আমাকে এত আগ্রহ করে নিয়ে গেলো; আমি না গিয়ে পারলাম না।

নানী মারা যাবার পর থেকে নানার বাসা-ই হোক, আর বাড়িই হোক- সবখান থেকেই পরমাণুর নিউক্লিয়াস যেনো মুছে গেছে। সেখানে বিচ্ছিন্ন ইলেক্ট্রন থেকে ইলেক্ট্রনে ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে না- সবখানে রিপালশান হয়। তবে সেখানে সালমানের মায়ের বাড়িতে কিভাবে যেনো একটা নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়; কিছুটা প্রাণ আছে বলে মনে হয়, তাই- সেখানেই থাকা হলো তিনটি দিন।

ঈদের পরদিন বলে রাস্তা ফাঁকা ছিলো। একটানে পৌঁছে গেলাম রাত নটায়। নানাজীর বাড়িতে ড্রপ করে সবার সাথে দেখার করেই খালার বাড়ি চলে গেলাম। সেখানে তেমন কেউ ছিলো না- প্রায় সবাই আমার দূর-সম্পর্কের এক কাজিনের বিয়েতে অ্যাটেন্ড করতে গ্রামে গিয়েছে।
পরদিন সকালেই আমার যাওয়া হলো গ্রামে। গ্রামটা আমার মায়ের নানাবাড়ী। সেখানে উঠানের পর একাধিক গাড়ি, মোটরসাইকেল পার্ক করা- ঢাকা থেকে সবাই গিয়েছে ঈদ আর বিয়ে উপলক্ষ্যে। সেখান থেকে পনরো মিনিট নানান ক্ষেত এর মধ্য দিয়ে হাঁটলে আরেক গ্রাম, সেখানেই বিয়ের আয়োজন।

এই বিয়ের অনুষ্ঠানটিতে আমার অ্যাটেন্ড করা হলো। গ্রামের বিয়ে যাকে বলে আরকি। নিজেদের বাড়ির উঠানে চারটি বাঁশ গেড়ে ভালোমতো কাপড় দিয়ে মুড়ে বসার ব্যবস্থা। পায়ের নিচে মাটি। এনট্রান্স দিয়ে বাইরে তাকালেই অনেক গাছ। এক ছোট্ট পিচ্চি বলছিলো- "এ গ্রামে তো ছ্যামা-ই (ছায়া) পড়ে না।" চেনা-অচেনা, পরিচিত-অপরিচিত সব কাজিনদের সাথে খেতে বসলাম। গ্রামে আবার কঠোর নিয়ম-- ছেলে-মেয়ে একসাথে খেতে বসা তো যাবেই না, এমনকি একসাথে দাঁড়িয়ে কথাও বলা যাবে না (!)। এ এক অলিখিত অস্বস্তিকর নিয়ম। ঢাকায় যে কাজিনদের সাথে একসাথে বসে আড্ডা দিয়েছি, এখানে বড়সড় সম্মিলনে তাদের সাথে কথা বললেই সবাই আড়চোখে তাকাবে ! আর গ্রাম বলে কথা- আমি হয়তো কারো সাথে দাঁড়িয়ে দু-চারটা কথা বলবো, পরে ঢাকায় এসে ফোন মারফত জানতে পারবো, আমার কল্পিত ভয়ানক প্রেম-কাহিনী কাজিনদের মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে !
সে যাক। খেতে বসলাম। পানি দিয়ে প্লেট ধুয়ে নিলাম। তার 'পর আবার গ্লাস কম। বাসায় নিতান্তই কাস্টমাইজড পাত্রে পানি খাবার অভ্যাস করায় বেশ অসুবিধায় পড়লাম। তাই খাওয়ার পুরোটা সময়ই আমি একটা বিশেষ গ্লাসের দিকে লক্ষ্য রাখলাম, যেনো সেটা আমার খালাতো ভাইদ্বয় ছাড়া আর কেউ ব্যবহার না করে। কিন্তু সে কথা আবার প্রকাশ করলে দোষ- বাকী আত্মীয়েরা দুঃখ পাবে। তবে এই গ্রামীন পরিবেশে খাওয়ার মজা আছে-- যেহেতু বদ্ধ পরিবেশ না, তাই খাবারের গন্ধে আগেই অর্ধভোজন হয়ে যায় না। আমাদের কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে যে প্রবলেমটা হয়-- সবার কড়া কড়া পারফিউম আর রূপ গিলে পেট অর্ধেক ভর্তি, আর বাকী অর্ধেক খাবারের ঘ্রাণে। তারপর খাবার খানিক নাড়াচাড়া করে চলে আসা। গ্রামে এসব যন্ত্রণা না থাকায় আনলিমিটেড খাওয়া যায়, আর আনলিমিটেড চাওয়াও যায় !

খাবার সময় বেশ এক কাহিনী হলো। আমার এক কাজিন, নাম সাব্বির; কিভাবে কী কাজিন হয় অতো সম্পর্ক তো খেয়াল নেই-- সে ছেলে কোনো এক কারণে আমাকে দেখতেই পারে না। কেমিস্ট্রিতে অনার্স করছে ছেলেটা। তো, আমি বাটি থেকে গোশ নিতে যাবো, এমন সময় আমার খালাতো ভাই ইমরান গোশ নিতে হাত বাড়ালো। আমি বললাম, "ঠিক আছে, তুমি নিয়ে আমাকে দাও।" তখনি সে বেশ ঠাট্টাচ্ছলে (কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম ভিতরে ভিতরে তার রাগ হচ্ছে !) ইমরানকে বললো, "না, তুই দিবি কেনো, নিজে নিয়ে নেবে, রাখ।" আমি ভদ্র মানুষের মতো হেসে সাংবাদিকীয় জবাব দিলাম, "না, আমি চাইছি যে ও আমাকে বেড়ে দেবে।" এমন কথার সে কোনো উত্তর পেলো না। মনে মনে বললাম, "মোক্ষম হয়েছে।"
এই ছেলেটির কী যেনো এক সমস্যা আছে। ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স কিনা, কে জানে। তবে আমি শুনেছি সে মেয়ে কাজিনদের মাঝে হার্টথ্রব (!), তার চাপার জোর আছে। তবে এটা সত্য, ছেলেটার মাঝে কী যেনো এক চার্ম আছে, তার টোটাল অ্যাপিয়ারেন্স-এ, সেটা আমার মনে হচ্ছিল তার মোটরসাইকেলের পেছনে করে শহরে যাবার সময়-- হঠাৎই মনের মধ্যে নিজে বলে উঠলাম, "Charming boy !" যাহোক, এই চার্মিং বয় কাজিনদের আড্ডার সারাটা সময় (যতক্ষণ সালমানের সাথে থাকার খাতিরে তার সাথেও থাকতে হয়েছে) নানানভাবে আমাকে খোঁচা দেবার চেষ্টা করলো। তার ধারণা এবং ভাবটা এমন-- "শহুরে ছেলে, ননীর পুতুল, এখানে এসে 'ভাব' নিচ্ছে, চাপার জোরে দুটো কথা শুনিয়ে দাবিয়ে দিতে পারলে যথার্থ হয়।" আমি হয়তো কোথাও বসবার আগে জায়গাটা ঝেড়ে নিচ্ছি, তাতে সে বেশ আমোদ পাচ্ছে, যেনো আমি ধুলোর মাঝে বসতে জানি না। কিংবা আমি হয়তো খাবার পর সবার এঁটো গ্লাসে পানি না খেয়ে আলাদা গ্লাস চেয়ে নিয়ে তা ধুয়ে কল চেপে পানি খাচ্ছি-- সে কৌতুক করছে, যেনো অপরিষ্কার পাত্রে আমার খাবার অভ্যাস নেই।

আমি নিতান্তই ভদ্রতার খাতিরে আমাকে নিয়ে করা সকল হাস্য-কৌতুকের জবাবে মুচকি হেসে বোকা বোকা মুখ করে থাকলাম। আমি আবার রাতে গ্রামে থাকি নি, কষ্ট করে মোটরসাইকেলে চড়ে শহরে এসে খালার বাড়ি থেকেছি। পরদিন সকালে সালমানের সাথে বাসা থেকে বেরোচ্ছি, তখন বললাম, "আচ্ছা, ওখানে সবাই আমাকে কী মনে করেছে ? মনে করেছে যে আমি শহুরে ছেলে, কিচ্ছু জানি না, কিছু পারি না, খুব সফট, গ্রামের কিচ্ছু বুঝি না, আমাকে নিয়ে ইচ্ছামতো হাসাহাসি করা যায় ? বাহ ! আমি শুধু ভদ্রতার খাতিরে চুপ ছিলাম। নইলে সাংবাদিকের ছেলের মুখ খুললে আর সবার মুখ বন্ধ হয়ে যেতো, হুঁহ।" তাই শুনে সালমানের সেকি হাসি ! পরে, আবারও যখন সব কাজিন (including সাব্বির) একসাথে নানান কথা বলছে আর আমি শুনছি, তখন সালমান বেশ করে হাসতে হাসতে আমার পুরো কথাটা quote করে শুনিয়ে দিলো !

ছেলেপক্ষের অনুষ্ঠানেও যাওয়া হয়েছিলো। এসব অনুষ্ঠানের কী যেনো নাম আছে। "ফিরানি" বলে একটা শব্দ আছে, কিন্তু কোন অনুষ্ঠান, তা ঠিক জানি না।

মেয়ের গায়ে হলুদের দিন (গ্রামে) আমি ক্লান্ত হয়ে একটা রুমে ফ্যানের নিচে শুয়ে পড়েছিলাম। খানিক পরে ঘুম থেকে উঠে উঠানে নেমে দেখি হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে ! আমাকে সালমান বললো, "যাও, খাওয়ায় দাও।" আমি গিয়ে বসলাম। তারপর বাটির বাঁটা হলুদের দিয়ে আঙুল দিয়ে পয়েন্ট করে বললাম, "এইসব হলুদ লাগানো কিন্তু ঠিক না। ছেলেরা এসে গায়ে হলুদ লাগিয়ে দেবে, এটা কিন্তু হারাম !" অবশ্য আমার কোনো সিরিয়াস কথারই সেখানে দাম নেই, আমি সেখানে "শহুরে কৌতুক ও বিস্ময়ের বস্তু"। আমি এক চামচ খাইয়ে দিয়ে উঠে আসবো, তখন সালমানসহ আরো সবাই বলে উঠলো, "এবার বাকি কাজটা সারো।" আমি বেশ ঝামেলায় পড়ে গেলাম। আমি তো চিন্তাই করি নি যে টাকা দিতে হবে ! সালমানকে ইশারায় ডেকে বললাম, "আমার ব্যাগে টাকা আছে, নিয়ে এসো তো।" তারপর টাকা দিয়ে বাঁচলাম ! (তবে সেখানে যে পরিমাণ মিষ্টি খেয়েছি তাতে অর্ধেক উশুল হয়েছে, নিশ্চিত !)

আরেকটা কথা না বললেই নয়। বিয়ের অনুষ্ঠানের আগেরদিনও আমি গ্রামে গিয়েছিলাম। আমি তো সারাদিনই সালমানের পিছপিছ গিয়েছি। ও যেখানে, আমিও সেখানে। যাহোক, সেদিন রাতে শহরে আসার জন্য মোটরসাইকেলে উঠবার আগ দিয়ে আমাকে রাতের খাবার খেতে জোর করা হলো ( কে যে বলেছিলো, তা চেহারাটা মনে আছে, কিন্তু সম্পর্কটা খেয়াল করতে হলে পাঁচ সাত মিনিট চিন্তা করতে হবে + আম্মুর হেল্প নিতে হবে, তাই লিখতে পারছি না )। সেদিনই আবার ওখানে ইলেকট্রিসিটি আউট। কুপি বাতির অন্ধকারেই খেতে বসলাম। জিন্স পরে মাটিতে বসা অসুবিধা, আমি একটু ইতস্তত করতে এক কাজিন (তারও নাম-চেহারা খেয়াল আছে, সম্পর্কটা খেয়াল নাই) মোড়া এনে দিলো। বসে খাওয়া শুরু করলাম। এদিকে সালমান তাড়া দিচ্ছে বেরোবার জন্য। অভ্যাসবশত ভর্তা দিয়ে অর্ধেকটা ভাত মািখয়ে নিয়ে মুখে দিয়ে চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে গেলো, সেই সাথে কান দিয়েও ধোঁয়া বেরোলো। আমি পানি খাবার জন্য সামনেই পানি ভরা গ্লাস হাত দিয়ে তুললাম। সাথে সাথেই হাত থেকে মাটিতে নামিয়ে রেখে মোড়ায় হাত মুছলাম, কারণ গ্লাসের গায়ে ভাত, তরকারি, ঝোল-- সবই লেগে ছিলো। কে জানে কীকরে কুপি বাতির ঐ আলো-আঁধারিতে রান্নাঘরের উপস্থিত সবাই তা দেখলো, আর বেশ হাসির রোল শোনা গেলো। আমি তো তেমন কাউকে চিনি না, তার 'পর আবার কুপি বাতির অন্ধকারে আরো চেনার উপায় নাই। ইমরান আমাকে সতর্ক করে দিয়ে বললো, "মাসুদ, সাবধান, ঐখানে কিন্তু অনেক মেয়ে তোমাকে দেখতেসে !"
আমার তো মাথায় ঘন্টা বেজে গেলো-- বলে কী ! তারপর একটু ঠাহর করে দেখলাম, রান্নাঘর সংলগ্ন জানালা বা ঐজাতীয় কিছুর ওপাশে বেশ কয়েক জোড়া চোখ আবছা বোঝা যাচ্ছে ! ততক্ষণে আমাকে গোশ দেয়া হয়েছে। সেই গোশ খেয়ে আমার আরো করুণ অবস্থা। এতে তারা বেশ আমোদ পেয়ে হাসছে, বোঝা গেলো। সাব্বিরের মা (তারও চাপার জোরের অভাব নেই) বলে উঠলেন, "আমরা তো আরো দুটো মরিচ ডলে খাই।" যাহোক, আমার এক কাজিন, নাম হলো যুঁথি (তাকে আমি আগে থেকেই চিনি)-- সে তখন একটা পানির মগ ধুয়ে নিয়ে এসে তাতে পানি ঢালতে ঢালতে বললো, "তোমার আমার ভাইটাকে নিয়ে এত হাসিস কেনো।" বলে আমাকে মগটা দিলো, আমি পানি খেয়ে হাত-টাত টিশ্যু দিয়ে মুছে কোনমতে হাত ধুয়ে বাঁচলাম। আর তখন সাব্বিরসহ আরো অনেকে বলে উঠলো, "ওরে...... এত কদর......।"

তাড়াতাড়ি সবাইকে খোদা হাফেজ জানিয়ে মটরসাইকেলে উঠে আমি নিশ্চিন্ত হলাম। (খালার বাড়ি পৌঁছে টয়লেটে গিয়েছিলাম কিনা, খেয়াল নেই !)


এবারের পাবনায় যাবার কথা খেয়াল করলে শুধু এই ঘটনাগুলোই মনে রাখবার মতো। ফিরবার কথা মনে করলেই তেতো অনুভুতি হয়- চার ঘন্টার রাস্তা সাড়ে সাত ঘন্টা মাইক্রোতে বসে থেকে মাজা ব্যথা !
এইতো, আর কী !

নূরে আলম
নভেম্বর ২২, ২০১১।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[ব্লগে কমেন্ট পোস্ট করার পরও যদি না দেখায়, তাহলে দ্বিতীয়বার পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। খুব সম্ভবত স্প্যাম গার্ড সেটাকে সরিয়ে নিয়েছে, আমি পাবলিশ করে দেবো।]

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগ এবং আহমেদ দিদাতের ইরান অভিজ্ঞতা

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।)
আহমেদ দিদাত (১৯১৮-২০০৫) এর নাম হয়তো অনেকের অজানা থাকবে। তবে ডা. জাকির নায়েকের নাম নিশ্চয়ই অজানা নয়। ডা. জাকির নায়েকের বর্তমান কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণা হলেন আহমেদ দিদাত। আহমেদ দিদাত, যিনি কিনা ডা. জাকির নায়েকের নাম দিয়েছিলেন "দিদাত প্লাস" – পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে লেকচার দেয়া ছিলো তাঁর কাজ। যাহোক, ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামী ইরানের জন্ম হয়। বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে ভিজিট করেন আহমেদ দিদাত, সাক্ষাৎ করেন ইমাম খোমেইনীর সাথে এবং নিজদেশে ফিরে এসে ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তাঁর অনুভূতি তুলে ধরেন। আহমেদ দিদাতের নানা বিষয়ে বক্তব্য ও চিন্তাভাবনা বাংলা ভাষায় কিছু না কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু শিয়া-সুন্নি ঐক্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর চমৎকার বক্তব্যের অনুবাদ কোথাও না পেয়ে সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই অনুবাদ করে ফেললাম। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। মূল অডিও কোথাও কোথাও শুনতে বা বুঝতে অসুবিধা হয়। কোথাওবা অডিও নিঃশব…