সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Copyright

আমি আইন বিশেষজ্ঞ নই। তবে, যে বিচার-বুদ্ধি ও বিবেক সকল আইনের উৎস, তা দিয়ে আমি Copyright & Piracy rethink করতে বসেছি।

১. কেনা-বেচা : আদিযুগ থেকে মানুষের মাঝে ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া চলে আসছে। কোনো ব্যক্তি যখন কোনো কিছু বিক্রি করেন, তখন সেই জিনিসটার উপর থেকে তার সত্ত্ব চলে যায়, বস্তুটার মালিকানা চলে যায় ক্রেতার কাছে। যেমন, আলু, চা, মাছ, মাংস, শার্ট, প্যান্ট, জুতা, ইত্যাদি যখন আমরা কিনি, তখন সেটার সমস্ত মালিকানা আমাদের হােত চলে আসে। আমরা সেটাকে যেভাবে খুশি ব্যবহার করতে পারি -- কাউকে দান করতে পারি, ভোগ করতে পারি, কিংবা নিছক নষ্ট করতে পারি। আদিকালে যত সমস্ত বস্তু কেনা-বেচা করা যেত, তার সবের উপরেই ক্রেতার এ ধরণের অধিকার ছিলো। এখনও আমরা এ ধরণের বস্তুর উপর অনুরূপ অধিকার ভোগ করে থাকি।

২. প্রডাক্টের ধরণ : প্রডাক্টকে একাধিক ভাবে একাধিক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন, পচনশীল দ্রব্য (expense) আর পুনর্ব্যবহার্য দ্রব্য(asset)। Expense এর উদাহরণ খাদ্যদ্রব্য, কলম, পেন্সিল, ইত্যাদি। Asset এর উদাহরণ চেয়ার-টেবিল, ফার্নিচার, ইত্যাদি; এছাড়াও হাউজহোল্ড অ্যাসেটও আছে। এই দুই ধরণের প্রডাক্টই আমরা যখন কিনি, তখন আমরা একে যেভাবে খুশি সেভাবে ব্যবহার করার অধিকার সংরক্ষণ করি।

এখন, আরেক ধরণের "জিনিস"কেও "প্রডাক্ট" হিসেবে কেনা বেচা করা হয়, যাতে ক্রেতা তার কেনা "জিনিস"টার উপর সম্পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করতে পারে না। সরকার এ ধরণের প্রডাক্টের উপর কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে; এ জাতীয় প্রডাক্টকে বলা হয় -- Intellectual property. উদাহরণ -- বই। আমরা একটা বই কিনতে পারি, সেটাকে ছিঁড়ে নষ্ট করতে পারি, কাউকে উপহার দিতে পারি, নিজে পড়তে পারি কিংবা দশজনকে "ধার" দিতে পারি। বইটার প্রতি মুগ্ধ হয়ে তার দু-দশ লাইন কোট করতে পারি ব্লগে, আর্টিকেলে, সমালোচনায় কিংবা ডায়রিতে। কিন্তু বইটাকে আমি "ফোটোকপি" করতে পারবো না, কিংবা স্ক্যান করতে পারবো না, কিংবা সম্পূর্ণ বই নিজ হাতে লিখে অনুলিপি তৈরী করতে পারবো না, কারণ বিশ্বের দেশগুলো জনগণকে সে অধিকার দেয় নাই। এই অধিকার দেওয়া হয়েছে শুধু বইটির লেখককে, সে-ই কেবল Copy করার Right সংরক্ষণ করে, তার-ই কেবল Copyright আছে।

এধরণের প্রডাক্ট আমরা কিনি, কিন্তু তার উপর সম্পূর্ণ অধিকার আমাদের থাকে না। আমরা প্রডাক্টটিকে অনেক কিছুই করতে পারি, চাইলে হাজার কিংবা লাখো লোকের জনসভায় পড়ে শুনাতে পারি, শত শত মানুষকে পড়ার জন্য ধার দিতে পারি, কিন্তু অনুলিপি তৈরী করতে পারি না। যদিও আমার হাতে সে ক্ষমতা আছে (এবং তা অতি সহজেই করা সম্ভব), তবুও আমি তা করতে পারবো না, কারণ সংবিধানে এটাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, আমার কেনা জিনিসের উপর বিক্রেতা (লেখক) কিছুটা অধিকার সংরক্ষণ করছে।

এই অধিকারটি লেখকে দেওয়ায় সে যেই সুবিধা ভোগ করে, তা এই যে মানুষ যেহেতু কোনো বইকে শতভাগ মুখস্থ করতে পারে না, আর বইটির বিষয়গুলো জানতে / পুনরায় পড়তে বারবার ধার নেয়াটা অসুবিধাজনক, তাই সে বাধ্য হয়ে বইটা কিনবে, লেখকের উপার্জন হবে। বইটি আরেকজনকে কিনতেই হবে, যদিও সে বইটির বিষয়বস্তুর অনুলিপি তৈরী করার উপকরণ বৈধভাবেই অধিকার করে। এদিকে আবার, একটা বই কেনার পরে তা অপরকে পড়ে শুনানো কিংবা সম্পূর্ণ পড়ার জন্য ধার দেওয়া, ইত্যাদিকে নিষিদ্ধ করা হয় নাই। কারণ এতে মানুষের মাঝে আগ্রহ তৈরী হবে, এবং তার অনুলিপি (ফোটোকপি / স্ক্যান) তৈরী করার ক্ষমতা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করে তার আগ্রহকে পুঁজি করে তাকে দিয়ে বইটি কেনানো হবে -- অর্থাৎ, কাস্টমার তৈরী করা হবে।

৩. Rethinking Buy & Sell:
উপরিউল্লিখিত দুই ধরণের প্রডাক্টের বাইরে আরেক ধরণের প্রডাক্ট হলো এইসব Intellectual property, যাকে কিনা বলে Intangible asset.
কপিরাইট আইনের পক্ষে অনেক যুক্তি আছে, উইকিপিডিয়ায় পাবেন। আমি একটা বইয়ের অনুলিপি তৈরী করতে পারবো না(এবং অতঃপর শেয়ার করতে পারবো না) শুধুমাত্র এই কারণে যে তাতে আরেকজন সম্ভাব্য কাস্টমার হারাবে বইয়ের লেখক (কিংবা, ঐ কাস্টমারকে সহ যে estimated customer count ছিলো, তা কমে যাবে), এবং তার বিক্রয় কমবে, উপার্জন কমবে।
কিন্তু আমি একটা আপেল কিনে অর্ধেকটা অপর এক ব্যক্তিকে (possible customer for new apple) দিতে পারি, তাতে সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না, যদিও এতে "হয়তো" নতুন একজন কাস্টমার হারালো আপেল বিক্রেতা। ("হয়তো" একারণে যে একটা আপেলের যে উপযোগ, তা অর্ধেকটা আপেলে থাকে না। তবুও, অর্ধেকটা আপেল খাবার পর সেই ব্যক্তিটি আপেল না-ও কিনতে চাইতে পারে)। কিন্তু একটা বইকে আমি reproduce (scan / photocopy) করলে এবং তা কোনো ব্যক্তিকে দিলে আর "হয়তো" কাস্টমার হারায় না লেখক; লেখক "নিশ্চিতভাবেই" একজন কাস্টমার হারায়।

কিন্তু আপেল আর বই কি তুলনাযোগ্য ? আপেল তো একবার খেলেই শেষ হয়ে যায়, এটা তো reusable নয়, এটা এমনকি asset ও নয়, কারণ asset এর physical decay আছে, কিন্তু একটা বইয়ের ফোটোকপি, কিংবা আরো ভালো উদাহরণ, scanned copy এর কোনো ক্ষয় নাই, এবং আপেলের মতো একবার পড়লে শেষ হয়ে যায় না, কখনোই হয় না।

একটা আপেল যখন এক ব্যক্তি সম্পূর্ণটা খেয়ে ফেলে, তখন সেটা আর কেউ খেতে পারে না। কিন্তু একটা বই যখন একজন পড়ে, তখন সেটা "আর কেউ পড়তে পারে না", এমন নয়। সেটা আরেকজন পড়তে পারে, অনুলিপি তৈরী করতে পারে এবং সেই অনুলিপিও একই অবস্থা প্রাপ্ত হয়। তাহলে, যে জিনিস আমরা এত সহজে কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরেকজনের ব্যবহারের উপযোগী করতে পারি, সে প্রক্রিয়াটা কেনো নিষিদ্ধ হবে ? শুধু কি এই কারণে যে কিছু ব্যক্তি এই জিনিসগুলো বিক্রি করে টাকা উপার্জন করে ? এবং, তাদেরকে জোর করে টাকা পাওয়াতেই হবে, সুতরাং, কোনো ব্যক্তি যদি বিনা টাকায় জিনিসটা আর কারো জন্য available করে, তাহলে তাকে মামলা দিয়ে ধরা হবে, যেনো অন্যরা ভয় পেয়ে এজাতীয় শেয়ারিং না করে। যেনো মানুষ কিনতে বাধ্য হয় ?
অনেকে বলবেন -- বইটা তো লেখক লিখেছেন। আমি বলবো -- লিখেছেন তো কী হয়েছে ? বইটা আমি পড়ছি না ? আরেকজনকে পড়তে দিচ্ছি না ? তবে সে একটা কপি রাখলে সেটা কি "অপরাধ" হয়ে যায় যে কাজটিকে piracy নামক নোংরা শব্দ দিয়ে অভিহিত করতে হবে ?


ব্যবসার খাতিরে কাস্টমারকে পণ্য কিনতে বাধ্য করাটা কতটুকু ethical ? 


৪. Audio business :

এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নাই। একটা গান আমি কিনতে পারবো (গানের সিডি), আমি ফুল ভলিউমে বাজিয়ে প্রতিবেশী সহ আশেপাশের আট-দশ বাড়িকে শুনাতে পারবো (এবং এভাবে অপরের intellectual property শেয়ার করার কারণে আমার বিরুদ্ধে কেউ মামলা করবে না), চাইলে বন্ধুকে অসংখ্যবার শুনাতে পারবো। এবং বন্ধুর / প্রতিবেশীদের এই গান শোনাগুলো হবে আমার ইচ্ছামতো। কিন্তু যখন তারা নিজেদের ইচ্ছামতো শুনবার জন্য গানটিকে তাদের পিসিতে পেতে চাইবে, তখন তাদের কিনতে বাধ্য করবে সরকার, নতুবা তারা বন্ধুর / প্রতিবেশীর পিসি থেকে কপি করার কারণে মামলা খেয়ে জেলে যাবে।

বিষয়টা এভাবে দেখুন -- আমি টাকা দিয়ে অপরের intellectual property কিনলাম। আমি তা শেয়ারও করলাম (ফুল ভলিউমে দিয়ে প্রতিবেশীদের / বন্ধুকে শুনালাম)। কিন্তু এতে যেহেতু possible customer এর estimated count কমার সম্ভাবনা থাকলো না, বরং বাড়লো (কারণ মানুষ আগ্রহী হয়ে কিনবে), তাই সরকার এ ধরণের sharing (of others' intellectual property) কে নিষিদ্ধ করছে না।
কিন্তু একটিমাত্র ক্লিকের মাধ্যমে (কোনো শ্রম / অর্থ ব্যয় না করে) আমি যখন অডিও ফাইলটির এক কপি আমার বন্ধুর পিসিতে দেবো, তখনই সেটাকে সরকার আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করবে; এই কারণে যে এতে possible customer এর estimated count কমলো। সরকার এ জাতীয় "দুষ্ট আইন" এর মাধ্যমে আমার বন্ধু / প্রতিবেশীটির পকেট থেকে জোর করে টাকা বের করিয়ে ঐ গায়ককে দিলো (যখন কিনা বন্ধু / প্রতিবেশীটি গানটি কিনলো)।

সরকারগুলো যখন আরো "দুষ্ট" হবে, তখন কি তারা এজাতীয় আইন করবে যে আপনি কোনো গায়কের গান অপর কাউকে গেয়ে শুনাতে পারবেন না ? কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট গায়কের নির্দিষ্ট গান শুনতে চাইলে ঐ গায়কের কাছ থেকেই তাকে টাকা দিয়ে শুনতে হবে, কিংবা অডিও ফাইল কিনতে হবে ? কিংবা মোবাইলে বাজতে থাকা (টাকা দিয়ে কেনা) গানটা শুনতে শুনতে ইয়ারফোনের একটা স্পিকার আপনি বন্ধুর কানে গুঁজে দেবার কারণে জেলে যাবেন ?

৫. Rethinking products :
Expenses এবং Asset, এগুলো এক ধরণের পণ্য, আর সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের পণ্য হলো বই, অডিও ফাইল, সফটওয়্যার, ইত্যাদি। সুতরাং, যে জিনিসগুলো reusable, re-distributable, সে জিনিসগুলোর ব্যবহার কিছু আইনের মাধ্যমে শুধু ব্যবসার খাতিরে রেস্ট্রিক্টেড করে দেয়াটা কি ethical ? আর, যে ব্যক্তিগুলো এসব "intellectual property" তৈরী করে এবং বিক্রয় করে, তাদেরও কি এই মানসিকতা ethical যে আমি একটি জিনিস তৈরী করবো, তার পিছনে একবার মাত্র আমার সময় / শ্রম যাবে (investment), আর তা থেকে আমি আজীবন unlimited উপার্জন করতে থাকবো ?

Limited investment এর মাধ্যমে unlimited profit gain (যা কিনা সম্ভব হয় শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করে) এর বিষয়টা কতটুকু ethical ?
একটা আপেলের উৎপাদন থেকে বিক্রয় পর্যন্ত limited investment হয়, এবং বিক্রয়ে limited profit হয়। limited investment এ unlimited profit কি মানুষকে আরো আলসে করে দেয় না ? এটা কি নতুন উচ্চতর গুণগতমান সম্পন্ন intellectual property এর উৎপাদনকে অনিশ্চিত করে না ?

৬. Rethinking intellectual property :
"Intellectual property" কথাটার ব্যবহার প্রচুর। "Intellect" এর যখন আউটপুট দেখা / পাওয়া যায় (অর্থাৎ, জ্ঞান), তখন কি সেটা কারো property থেকে যায় ? "জ্ঞান" কে কি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবী করা উচিত ? না সেই জ্ঞানের প্রচারের অধিকার "দুষ্ট আইনের" মাধ্যমে কুক্ষিগত করে তা থেকে সারাজীবন লাভ উঠানো উচিত ? বড় বড় বিজ্ঞানীগণ (নিউটন, ফ্যারাডে, আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিং) যদি তাদের থিয়োরীগুলো জানার এবং ব্যবহার করার জন্য অপর বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে টাকা নিতেন, তবে বিষয়টা কেমন হতো ? নাকি শুধু গল্প-উপন্যাসের লেখকদের লেখার অংশই আর কেউ ব্যবহার করতে পারবে না, কিন্তু বিজ্ঞানীদের proposed তত্ত্বগুলো যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে ? নাকি গল্প-উপন্যাসই শুধু Intellectual property, বিজ্ঞানীদের থিয়োরীগুলো নয় ?

৭. Computer programs :  
একইভাবে, একবার একটা প্রোগ্রাম লিখে তা আজীবন বেচে খাওয়ার বিষয়টা কতটুকু ethical ? আর এজাতীয় সুযোগ (সরকার প্রদত্ত copyright) কি customer-oriented production কেই উৎসাহিত করে না ? এতে ব্যক্তির স্বাধীনভাবে (freely) কাজ করার স্পৃহা থাকে না / নষ্ট হয়ে যায়, উপার্জনের চিন্তায় সে তখন শুধুই customer এর চাহিদামতন জিনিস তৈরী করে। ঠিক যে ব্যাপারটি হয় নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠীর জন্য একইধরণের সস্তা উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে -- উচ্চতর মানসম্পন্ন লেখা তৈরী হয় না। একই ব্যাপার ঘটে যখন সাংবাদিকেরা তাদের মস্তিষ্ককে বিভিন্ন দল / মতাদর্শের কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন -- সত্যিকারের শক্তিশালী সাংবাদিকতা তখন নষ্ট হয়ে যায়।

সমাধান :
সমাধান নাই। আপাতত শুধুমাত্র কম্পিউটারের দুনিয়ায় প্রোগ্রাম / অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে ওপেন সোর্স (মুক্ত, স্বাধীন -- free) ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির লেখা বই স্ক্যান করুন কিংবা কোনো গান কপি করে বন্ধুকে দিন কিংবা নেট থেকে ডাউনলোড করুন -- বাংলাদেশ সরকার এসে না ধরলেও বিশ্বের বহু দেশের সরকারই ধরে জেলে পুরবে, SOPA, PIPA কিংবা ACTA এর অধীনে।

Conclusion :
ACTA, SOPA কিংবা PIPA -- যা-ই দিক না কেনো, এই নোংরা শব্দ"Piracy" টা অন্তত ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিত। যে গানটা আমি টাকা দিয়ে কিনেছি, কিংবা যে সফটওয়্যারটা আমি টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করছি, তা একজনকে কেনো, একশতজনকে বিলিয়ে বেড়ালেও এটাকে Piracy বলা উচিত না, বরং একে উৎসাহিত করা উচিত। এতে Software reusable হয়, মান বৃদ্ধি হয়, তথ্যের দ্রুত ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হয়।

মন্তব্যসমূহ

  1. ভাল লাগল। লেখাতে ভাবার বিষয় আছে। তবে এখনই সম্পূর্ণ সহমত হতে পারছিনা...কারণ আরো ভাবতে হবে।

    উত্তরমুছুন
  2. পড়লাম।
    যে কথাটা সমর্থন কর তার পক্ষের যুক্তিটা শক্ত করে দিয়েছ এবং বলতে চাচ্ছ piracy শব্দটা নোংরা। একজন লেখক, প্রকাশক, গায়ক বা প্রডিউসারেরও এই ব্যাপারে say আছে। তাদেরও শক্ত যুক্তি আছে।

    আমি মনে করি না যে copyright law সম্পূর্ণ উঠিয়ে দেয়া উচিত। আমি একজন লেখক বা গায়ক হয়ে এটাই feel করতাম। আবার আমি এটাও মনে করি যে এই law বেশি strict. আমার মনে হয় দু'টোর মধ্যে balance হওয়া দরকার।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[ব্লগে কমেন্ট পোস্ট করার পরও যদি না দেখায়, তাহলে দ্বিতীয়বার পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। খুব সম্ভবত স্প্যাম গার্ড সেটাকে সরিয়ে নিয়েছে, আমি পাবলিশ করে দেবো।]

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগ এবং আহমেদ দিদাতের ইরান অভিজ্ঞতা

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।)
আহমেদ দিদাত (১৯১৮-২০০৫) এর নাম হয়তো অনেকের অজানা থাকবে। তবে ডা. জাকির নায়েকের নাম নিশ্চয়ই অজানা নয়। ডা. জাকির নায়েকের বর্তমান কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণা হলেন আহমেদ দিদাত। আহমেদ দিদাত, যিনি কিনা ডা. জাকির নায়েকের নাম দিয়েছিলেন "দিদাত প্লাস" – পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে লেকচার দেয়া ছিলো তাঁর কাজ। যাহোক, ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামী ইরানের জন্ম হয়। বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে ভিজিট করেন আহমেদ দিদাত, সাক্ষাৎ করেন ইমাম খোমেইনীর সাথে এবং নিজদেশে ফিরে এসে ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তাঁর অনুভূতি তুলে ধরেন। আহমেদ দিদাতের নানা বিষয়ে বক্তব্য ও চিন্তাভাবনা বাংলা ভাষায় কিছু না কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু শিয়া-সুন্নি ঐক্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর চমৎকার বক্তব্যের অনুবাদ কোথাও না পেয়ে সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই অনুবাদ করে ফেললাম। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। মূল অডিও কোথাও কোথাও শুনতে বা বুঝতে অসুবিধা হয়। কোথাওবা অডিও নিঃশব…