সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শেষ চিহ্ণ

(গল্প)

-->
এইতো, সেদিন এরকমই বৃষ্টি হচ্ছিলো- এর চেয়েও বেশি। তখন সন্ধ্যা নেমেছে, তেরো তলা কমার্শিয়াল ভবনের অনেকগুলো ফ্লোরেই আলো নিভে গেছে, মানুষজন সব বের হয়ে গাড়িতে উঠছে, গাড়িগুলো চোখের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে- আর ক্লাস শেষে বেরিয়ে আমরা দু’জন বৃষ্টিতে আটকা পড়ে শেডের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
সেদিনটা আমার খুব মনে আছে- তুমুল বৃষ্টিতে দু-হাত দূরে থাকা মানুষ পর্যন্ত ঝাপসা হয়ে উঠছিলো, আর আমরা কিছুটা সময়ের জন্য চুপ হয়ে গিয়ে দু’জনেই রাস্তার উপর গুলশান লেকের উপচে পড়া পানির স্রোত দেখছিলাম।
সেদিনই শেষবারের মত- নাহ, তোমাকে প্রথম থেকেই বলি।

ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির পর প্রথম প্রথম আমি কারো সাথে একেবারেই মিশতাম না। চুপচাপ ক্লাসে যেতাম, সার্কিটি ডায়াগ্রামগুলো খাতায় আঁকতাম আর বাসায় এসে ঐ নিয়েই পড়ে থাকতাম। ক্লাসের কারো সাথেই কথা বলতে ইচ্ছে করত না। কোনো মানুষের সাথে কথা বলতে গেলেই ক্লান্তি লাগতো। কলেজের বন্ধুরা অবশ্য শেষদিকে আমার মাঝে এমনটা দেখে বেশ অবাক হয়েছিলো। এদের মাঝে একজন বলেছিলো- বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হবার কারণেই নাকি আমি এমন, আমার নাকি অনেক মানসিক জটিলতা তৈরী হয়ে গিয়েছে। যাহোক, কলেজের শেষদিক থেকে শুরু করে আমার এই ক্লান্তি চলে আসছিলো, ইউনিভার্সিটিতেও সেটা চলতে লাগলো।

তৃপ্তির সাথে আমার কথা হলো ইংলিশ ক্লাসে। ইংলিশ ক্লাসগুলো কম্বাইন্ড হলো- ইলেকট্রিকাল আর ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট একসাথে। সেখানেও আমি চুপচাপ-ই থাকতাম, প্রেজেন্টেশানের দিনগুলো ছাড়া। এখন আমি নিজেও বলতে পারবো না সেসময় মাথায় কী চিন্তা চলতো, কিন্তু ইংলিশ ক্লাসে মাঝে মাঝেই সার্কিট ডায়াগ্রাম দেখতে পেতাম স্যারের মুখে। এমনভাবে ক্লাস করা সত্ত্বেও আমি সর্বোচ্চ নাম্বার ধরে রাখলাম টানা দু-মাস। সবগুলো ক্লাস টেস্ট, প্রেজেন্টেশান আর অ্যাসাইনমেন্ট-এ।

যেদিন স্যার তৃপ্তির সাথে আমার প্রেজেন্টেশান গ্রুপ তৈরী করলেন, সেদিন আমি অবাক না হয়ে পারলাম না। মেয়েদের মাঝে একেবারে প্রথম সারির ছাত্র ছিল ও। নিয়মিত ক্লাস করতো আর মনোযোগের সাথে পড়াশুনা করতো। স্যার কেনো আমার ডিপার্টমেন্ট বাদ দিয়ে অন্য ডিপার্টমেন্টের একটা মেয়ের সাথে আমাকে গ্রুপ করতে বললেন, ভেবে পেলাম না। তবে সেদিন থেকে তৃপ্তির সাথে আমি কাজ করা শুরু করলাম।

মিড টার্মের পর এই অ্যাসাইনমেন্টেই সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছিলেন স্যার- প্রায় দু’ সপ্তাহ। প্রতিদিন রাতে ইন্টারনেটে বসে কাজ করতাম। আমি ইনফরমেশান নিয়ে ওর কাছে পাঠাতাম। ও সেগুলোকে শুদ্ধ ইংরেজিতে লিখে ফেলত। আমরা নেটে বসে প্রেজেন্টেশানের পার্টগুলোও রিহার্সাল করলাম কয়েকবার। আমি মানুষের সাথে মিশতাম খুব কম, মেয়েদের সাথে তো আরো নয়। কিন্তু তৃপ্তির সাথে বেশ কথা হয়ে গেলো ঐ কয়েকদিনে।

অ্যাসাইনমেন্ট আর প্রেজেন্টেশানে আমরা খুব ভালো কাজ দেখালাম, কিন্তু- সরাসরিই বলি- এরপর থেকে ক্লাসে বসে থাকলেও আমার মাথায় আর গ্র্যামারের তত্ত্ব ঢুকতো না, বরং হোয়াইটবোর্ড তৃপ্তির ভিডিও কলিং স্ক্রিণগুলো দেখতে পেতাম। আমি জানতাম ওর বয়ফ্রেন্ড আছে। ও নিজেই বলেছীলো আমাকে, তবু আমি ওকে নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম।
আমি তৃপ্তিকে কিছুতেই বুঝতে দিই নি, কিন্তু ও হয়তো কিছুদিন পরেই বুঝে ফেলেছিলো। যাইহোক, আর দু-মাস ক্লাস চললো। আমি লজ্জা ভেঙে নিজে থেকেই ওর সাথে প্রেজেন্টেশানের গ্রুপগুলো করলাম। একসাথে অ্যাসাইনমেন্ট করলাম, ভিডিও চ্যাটিঙে প্রেজেন্টেশান নিয়ে আলোচনা করলাম, আর- । আর মাঝে মাঝে ক’দিন ব্রেকের সময়ে গুলশান লেকের পাড়ে বসে আর সবাইকে নিয়ে ওর সাথেও আড্ডা দিলাম। কিভাবে যেনো আমি তখন বেশ কথা বলতাম ওর সাথে, কিন্তু ক্লাসে চুপচাপ-ই থাকতাম।

পরবর্তী সেমিস্টারে ওর সাথে আমার আবার একই কোর্স করা হলো, সেটাও ইংলিশের-ই একটা সাবজেক্ট ছিলো। আমার মন মাঝে মাঝে বলত- আমি কী করছি, ওর তো বয়ফ্রেন্ড আছে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার নিজেকে বলতাম- কই, কিছুই তো হয় নি, আমি তো কিছুই করি নি, ও তো শুধুই বন্ধু। কিন্তু একদিন ওর কথা থেকে বুঝতে পারলাম, হয়তো আমাকেও ও ভালোবাসে। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার কি জানো, -ও না, আমিও না, কেউ-ই কখনো কাউকে সরাসরি বলি নাই, কিন্তু বুঝতে পারতাম যে বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কিছু হয়ে গিয়েছিলো আমাদের মাঝে। একদিন ভিডিও কলে বলেছিলাম, “আমি ফায়ার অ্যালার্ম বানিয়েছি, আগুন লাগলেই নিভিয়ে ফেলবে পানি দিয়ে।” ও বলেছিলো, “আমার…" ওর কথায় আমি কী বলব ভেবে না পেয়ে বলেছিলাম, “হ্যাঁ, পারবো, ফায়ার অ্যালার্ম সেট করতে হবে।” ও কথা ঘুরিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলো, কিন্তু ওর সেদিনের সেই ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি আমি মনে হয় কখনো ভুলবো না।

বলতে গেলে তো অনেক কথাই বলা যায়, কিন্তু ওকে যে আমি কতটা ভালোবেসে ফেলেছিলাম, সেটা বুঝতে পেরেছিলাম একদিন। সেদিন সকালে আমাদের প্রেজেন্টেশান ছিলো, আমি ফোন করে নিশ্চিত করেছিলাম ও আসছে কিনা। ইউনিভার্সিটিতে বিশ মিনিট আগে পৌঁছলাম- আমাদের প্র্যাকটিস করার কথা ছিলো। ও তখনো পৌঁছায় নি, আমি বারবার ফোন করলাম, কিন্তু ফোন বন্ধ ছিলো। আমার এতো অস্থির লাগলো- মনে হলো ও হয়তো কোনো বিপদে পড়েছে। আমি ওর বাসা চিনি না, শুধু জানতাম বাস থেকে নেমে কোথা দিয়ে রিকশা করে আসে। আমি প্রেজেন্টেশান বাদ দিয়ে সেখানেই গেলাম। সেদিন আমার একটা ক্লাসও করা হলো না। বারবার ফোনে চেষ্টা করে আমি আশঙ্কায় অস্থির হয়ে গেলাম। বাসায় গিয়ে ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে চুপ করে বসে থাকলাম। আমার আর ফোন হাতে তুলতে সাহস হচ্ছে না- কিন্তু কষ্টে বুকটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। আমি কাকে কী বলবো ? রাত হয়ে গেলো, কোনোমতে ডাইনিং টেবিল থেকে উঠেই আবার বিছানায় গিয়ে বসে থাকলাম। রাত এগারোটায় ও নিয়মিত অনলাইনে আসত- আমি শেষ চেষ্টা হিসেবে পিসিটা অনটা করলাম। কিন্তু আমার আশঙ্কাই সত্য হলো- আমার শেষ আশাটাও শেষ হয়ে গেলো- ও অনলাইনে নেই। তখন আমাকে বর্ণনা করা কঠিন। আমি পিসিটা অফ করে চুপ করে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। মনে হচ্ছে কে যেনো আমার কলিজা হাতে নিয়ে মোচড়াচ্ছে। আমি কখনো কেঁদেছি বলে মনে পড়ে না- কিন্তু আমার চোখ দিয়ে আপনা আপনিই পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
রাত সাড়ে এগারোটায় হঠাৎ ফোন ভাইব্রেট করে উঠলো। আমর মনে কে যেনো তাড়া দিলো- লাফিয়ে উঠে আমি তৃপ্তির ফোন রিসিভ করলাম।
হ্যালো, কী ব্যাপার, নেটে আসো নাই কেনো ? আজকে প্রেজেন্টেশানটা মিস হলো- আমি খুব স্যরি- কিন্তু ও গাজীপুর থেকে এসেছিলো আজকে, আমার দেখা করতেই হলো।”
আমার মনে হলো শরীরের সবগুলো বাঁধন খুলে গিয়েছে, হাত থেকে যেনো ফোনটা পড়ে যাবে। অনেক কষ্টে কণ্ঠ স্বাভাবিক রেখে মিথ্যা কথা বলে দিলাম- “কারেন্ট নাই। কারেন্ট আসলে নেটে বসব।”

তারপর আবার সব আগের মত চলতে লাগলো। একদিন- তখন আমরা গুলশান লেকের পাড়ে বসে গল্প করছিলাম, ও হঠাৎই বলল, “দেখো, আমার তো বয়ফ্রেন্ড আছে...।” ওর কথাটা ভয়ানক রকম কষ্টদায়ক, সে কষ্টের ভার আমি নিতে পারবো না, তাই আমি ওকে বাক্যটা শেষ করতে দিলাম না, বললাম, “হুঁ, আর আমি তো তোমার ফ্রেন্ড।” তারপর কথা ঘুরিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলাম। কিন্তু সেদিনের পর থেকে ও ইচ্ছা করেই আমার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিলো। ফোন করলে দু-তিনবারের পর রিসিভ করতো, ঠিকমতো কথা বলতো না। আমি স্পষ্টই বুঝতে পারতাম, আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে ও। তখন এত কষ্ট লেগেছে আমার ! তবু আমি আগের মত আচরণ করে গিয়েছি। আমি বুঝতে পারছিলাম, বয়ফ্রেন্ডের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাইছে বলেই ও আমার দিকে ঝুঁকে পড়া মনটাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরিয়ে নিতে আমাকে এড়িয়ে চলছে। আমার প্রচন্ড রাগ লাগতে শুরু করলো একসময়। কিন্তু আমি তো ওকে কখনো সরাসরি বলিও নি, -ও বলে নি, তবে দোষটা কার ? তবুও, আমরা দু’জনেই তো বুঝতে পারতাম। আমি বুঝতাম, আমার থেকে ওর দূরে সরে যাওয়াটা অনিবার্য- কিন্তু মন তো সেটা মানতে চাইত না।

তারপর একদিন- সেদিন, যেদিন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিলো, আমরা ক্লাস শেষে নিচে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম কী করে এই বৃষ্টির মাঝে বের হওয়া যায়। এক্সট্রা ক্লাস করতে গিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো ওর। ওর জন্যেই অপেক্ষা করেছিলাম আমি। ওর সাথে আমার আর কোনোরকমের সম্পর্কই নেই- আচরণ দিয়ে সব বুঝিয়ে দিয়েছে ও, তবুও পুরনো বন্ধুত্বের খোলসটা ধরে রেখেছিলাম। বেশ কতগুলো রিকশা সামনে দিয়ে চলে গেলো। পানি আরো বাড়ার আগেই তারা চলে যাচ্ছে গ্যারাজে। লেকের পানির স্রোত রাস্তায় খেলে যাচ্ছে। নিয়ন আলোয় সেই অদ্ভুত স্রোত দেখতে দেখতে মন্ত্রমুগ্ধের মত আমরা কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। বুষ্টির বেগ বাড়ার শব্দে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে আমি ওকে বললাম, “বলোতো কী করা যায় ?” ও অদ্ভুত হেসে বলল, “আমি কী জানি !” যেনো আমার সাথেই দাঁড়িয়ে থাকতে চাইছে ও, বাসায় যাবার কোনো ইচ্ছাই নেই। ওর সেই হাসিতে কী ছিলো জানি না, তবে এতটুকু বোধহয় এমনটা ছিলো যে ও অনুভব করছে- আমরা বহুদিনের পুরনো দুই স্মৃতিকাতর বন্ধু। আমার হৃৎস্পন্দন মুহুর্তের জন্য বেড়ে গিয়ে আমাকে বলল, “এইতো ও আমার !” কিন্তু না, তখনই মনের মাঝে কে যেনো বলল, “ওর এই হাসিকে এতদিনেও চিনতে পারো নি ?"
আমি ব্যাগটা ওর হাতে দিলাম, বললাম, “ধরো। আমি দেখি রিকশা পাওয়া যায় কিনা একটা।” আমি ওর জন্যে হাঁটু পানিতে নামছি, এটা দেখে ওর মুখে ক্ষণিকের আটকে যাওয়া কথাটা প্রকাশ পাবার আগেই আমি রাস্তায় পা রাখলাম। তুমুল বৃষ্টি, সে বৃষ্টির শব্দে একহাত দূরের মানুষটির কথা পর্যন্ত অস্পষ্ট হয়ে আসে। “ও কি কিছু বলল ?” বললেই বা- আমি একবার মাত্র পেছন ফিরে ওর দিকে তাকালাম। মায়াবী হলুদ আলোয় ওকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। আমার ব্যাগ দুহাতে ধরে দাঁড়িয়ে আছে ও। মুহুর্তের জন্যে ওকে খুব ভালোবাসতে মন চাইলো- একটা বাচ্চাকে মানুষ যেভাবে ভালোবাসে, সেভাবে। ঐ মুহুর্তটিতেই যেনো আমি ওকে প্রাণভরে ভালোবেসেছিলাম; মায়াবী আলোয় ভারী বৃষ্টির পর্দার আড়ালে ওর রূপসুধা দু চোখ ভরে পান করেছিলাম। সে মুহুর্ত খুবই ক্ষুদ্র, কিন্তু তার অনুভব যেনো কাল পেরিয়েও শেষ হয় না।

মুহুর্তমাত্র, তারপরেই বৃষ্টির ঠান্ডা পানি আমার জিন্স ভিজিয়ে হাড়-মাংস ভেদ করে একরাশ শীতল শারীরিক অনুভুতি নিয়ে বুক পর্যন্ত পৌঁছে সেখানের সমস্ত উষ্ণতাকে মুহুর্তে শেষ করে দিলো। আমি হাঁটু পানি ঠেলে এগোতে লাগলাম। তখন কে যেনো আমার বুকের মাঝে সবকিছু তছনছ করছে, আমার সমস্ত সত্ত্বা দিয়ে যেনো আমাকে চিন্তা করতে বাধ্য করাচ্ছে- “ও তো আমার নয়, কখনো হবেও না... তবে কেনো এসব করছি... ও তো আমার হবার নয়...।”

রিকশা নিয়ে চলে গেলো ও। কাকভেজা আমি পাকা জায়াগাটির উপর উঠে ও খানিক আগে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো, সে জায়গাটিতে দাঁড়ালাম। জিন্স বেয়ে শীতল পানি আমার অনুভুতিসহ গড়িয়ে পড়ে ওর দাঁড়িয়ে থাকার শেষ চিহ্ণটাকে মুছে দিলো। সেখানে হয়তো ওর পায়ের ছাপ আরো পড়েছিলো, কিন্তু সেকথা আমার আর জানা হয় নি।

নূরে আলম
অগাস্ট ১৩, ২০১১।

মন্তব্যসমূহ

  1. lekha valoi hoyechhe. tobe kichhu kichhu jaygay chheletar onuvutir bornona khub common hoye gechhe. asole onuvuti to ek e, tar prokash-vongita jodi different hoy tokhon lekhay beshi chomok pawa jay.

    উত্তরমুছুন
  2. ধন্যবাদ ! আমার ব্লগে তোমার প্রথম কমেন্ট :)

    উত্তরমুছুন
  3. ধন্যবাদ ! আমার ব্লগে আপনার প্রথম কমেন্ট :)

    উত্তরমুছুন
  4. valo hoyeche... tobe mone hoy onek kichu chepe rakha... othoba incomplete... premer golpo limit rekhe lekha kothin.

    still good.

    উত্তরমুছুন
  5. :)
    কী ব্যাপার, কেউ বাংলায় কমেন্ট করে না কেনো ?

    উত্তরমুছুন
  6. valoi legese.tobe amr kase common none hoese.hoito common e valo.....

    উত্তরমুছুন
  7. ভাল লেগেছে। তবে আরো লিখতে পারতে। আরো পড়তে ইচ্ছা হচ্ছিল:(

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[ব্লগে কমেন্ট পোস্ট করার পরও যদি না দেখায়, তাহলে দ্বিতীয়বার পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। খুব সম্ভবত স্প্যাম গার্ড সেটাকে সরিয়ে নিয়েছে, আমি পাবলিশ করে দেবো।]

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শিয়া-সুন্নি বিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং উভয় পক্ষের জবাব

শিয়া-সুন্নি বিভেদ ও দ্বন্দ বহু পুরনো বিষয়। এই দ্বন্দ নিরসনে ইতিহাসে বহু দ্বীনি ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের পরপর ডা. জাকির নায়েকের ওস্তাদ আহমদ দীদাত ইরানের যান এবং সেখান থেকে ফিরে এসে শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা আমি এক সপ্তাহ আগে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলাম
যা-ই হোক, এই দ্বন্দ নিশ্চিতভাবেই মুসলমানদের জন্য একটি নেতিবাচক ও দুর্বলতার দিক। এমনকি তা অনেককে চরমপন্থার দিকেও নিয়ে গিয়েছে। আগে যেই শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ আলেমসমাজ ও কতিপয় জানাশোনা ব্যক্তির মাঝে সীমাবদ্ধ ছিলো, বর্তমান সহজ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তা প্রায় সকল লেভেলে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, একদল আরেক দলকে এমন অনেক অভিযোগ করছে, যেগুলো হয়তো শিয়া-সুন্নি উভয় আলেমই অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দেবেন। তবে তথ্যের অবাধ প্রবাহের একটি সুবিধা হলো, এতে মিথ্যার প্রচার যেমন অতি সহজ, তেমনি একইভাবে মানুষের দ্বারে সত্যকে পৌঁছে দেওয়াও খুব সহজ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শিয়া ও সুন্নি উভয়কেই মুসলিম ভাই বলে গণ্য করি। কিন্তু তাদের বৃহত্তর ঐক্যে পৌঁছানোর ব্যর্থতা, পরস্পর শত্রুতা ও প্রেজুডি…

ইমাম খোমেনীর জীবন : এক ইসলামী বিপ্লবের ইতিহাস

রুহুল্লাহর গল্প
বিশ্ব ইমাম খোমেনীকে প্রথমবারের মত চিনেছে ১৯৭৮ সালের শেষাশেষি, যখন ইরানের রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করার কারণে তিনি ফ্রান্সে নির্বাসিত ছিলেন। প্যারিসের অদূরে বসে ইরানের শাহ মুহাম্মদ রেজা পাহলভীর বিরুদ্ধে ইমাম খোমেনীর ঘোষিত যুদ্ধ এবং আমেরিকা বিরোধী কঠোর বক্তব্য এক অভূতপূর্ব মিডিয়া কাভারেজ এনে দিলো, এবং ইমামকে বিংশ শতকের অন্যতম বিপ্লবী চরিত্র হিসেবে পরিচিত করলো। পত্র-পত্রিকা আর নিউজ বুলেটিনে তাঁর ছবি ভরে উঠলো। এই ছবি বিশ্বের অসংখ্য মানুষের কাছে, বিশেষতঃ পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিতান্তই অপরিচিত ছিলো। সাদা দাড়ি এবং কালো পাগড়িধারী এই মানুষটিকে দেখে মনে হতো যেনো ইতিহাসের পাতা থেকে সময় অতিক্রম করে বর্তমানে চলে এসেছেন। তাঁর সমস্তকিছুই ছিলো নতুন আর অপরিচিত। এমনকি তাঁর নামটিও : রুহুল্লাহ। আর দুনিয়ার অসংখ্য পলিটিশিয়ান ও সাংবাদিকদের মনে যে প্রশ্নটি নাড়া দিয়ে যাচ্ছিলো, তা ছিলো : কী ধরণের বিপ্লবী মানুষ এই খোমেনী ?

শিয়া-সুন্নি ঐক্য ডায়লগ এবং আহমেদ দিদাতের ইরান অভিজ্ঞতা

(লেখাটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।)
আহমেদ দিদাত (১৯১৮-২০০৫) এর নাম হয়তো অনেকের অজানা থাকবে। তবে ডা. জাকির নায়েকের নাম নিশ্চয়ই অজানা নয়। ডা. জাকির নায়েকের বর্তমান কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণা হলেন আহমেদ দিদাত। আহমেদ দিদাত, যিনি কিনা ডা. জাকির নায়েকের নাম দিয়েছিলেন "দিদাত প্লাস" – পৃথিবীজুড়ে ঘুরে বেড়ানো এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে লেকচার দেয়া ছিলো তাঁর কাজ। যাহোক, ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে ২৫০০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইসলামী ইরানের জন্ম হয়। বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে ভিজিট করেন আহমেদ দিদাত, সাক্ষাৎ করেন ইমাম খোমেইনীর সাথে এবং নিজদেশে ফিরে এসে ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে তাঁর অনুভূতি তুলে ধরেন। আহমেদ দিদাতের নানা বিষয়ে বক্তব্য ও চিন্তাভাবনা বাংলা ভাষায় কিছু না কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু শিয়া-সুন্নি ঐক্যের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর চমৎকার বক্তব্যের অনুবাদ কোথাও না পেয়ে সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই অনুবাদ করে ফেললাম। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। মূল অডিও কোথাও কোথাও শুনতে বা বুঝতে অসুবিধা হয়। কোথাওবা অডিও নিঃশব…